Online Update

Keep in touch for online update.
পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য রয়েছে অনলাইন আপডেট। ফেসবুক ফ্যানপেজ-এর কুইজে অংশগ্রহন করতে লগ-ইন কর facebook.com/Panjeree। কুইজে অংশগ্রহন করে প্রতি সপ্তাহে জিতে নাও আকর্ষনীয় পুরষ্কার।

টিউশন ফি আদায়ে নীতিমালা আসছে


 
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাগামহীন টিউশন ফি আদায়ের ফলে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠছে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের এমন অভিযোগের পর যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কমিটি অযৌক্তিক টিউশন ফির লাগাম টানতে প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।

কমিটি গঠনের সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সমকালকে বলেন, 'বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো অভিযোগ উঠেছে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গলাকাটা হারে টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে। অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, যে সাবজেক্টে যে হারে ফি আদায় করা হচ্ছে, তা যৌক্তিক নয়। এ অবস্থায় টিউশন ফি যৌক্তিক করতে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।'


জানা গেছে, দেশের ৮৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৭৯টি। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ক্ষেত্রে কোনো একক কাঠামো নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ব্যয়কে ভিত্তি করে টিউশন ফি নির্ধারণ করে থাকে। এজন্য একই সাবজেক্টের টিউশন ফি একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক রকম। শুধু তাই নয়; প্রতিসেমিস্টারে বিনা কারণে বাড়ানো হচ্ছে ফি। ১৯৯২ সালে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর এই প্রথম সরকার টিউশন ফির লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ সংশোধন করতে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের কমিটি। কমিটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে কত টিউশন ফি হবে, তা নির্ধারণ করে দেবে। এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডে সরকারের সদস্য নিয়োগ, আর্থিক বিষয় তদারকি, জনবল নিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয়েও সুপারিশ করবে।

গত ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত নভেম্বর মাসে ১২তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুসকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) হেলাল উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ওই কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী।
বৈঠকে সদস্যরা জানান, এ আইন সংশোধন করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ইচ্ছামতো ফি আদায় করতে পারবে না। প্রয়োজন ছাড়া ফি বাড়াতে পারবে না। ফলে একই বিষয়ে একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ব্যবধান কমে আসবে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেপরোয়া টিউশিন ফির চাপে বর্তমানে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ফি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনো নিয়ম মানছে না। কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা বিদেশে টাকা পাচার করছেন বলে গোয়েন্দা রিপোর্টও আছে। অথচ সরকার এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ম-কানুনের মধ্যে আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন সমকালকে বলেন, 'কমিটির ১২ ও ১৩তম বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির বিষয়টি এসেছে। আমরা বলেছি, টিউশন ফি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ হয়, তা কারও জানা নেই। এর একটা নীতিমালা থাকা দরকার। তাই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে কাজ করবে।'

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চড়া টিউশন ফির বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের অনেক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় তারা তা আমলে নিতে পারেন না।

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট বসানোর পর ব্যাপক আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকার এই ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এর পরই টিউশন ফির লাগাম টানার উদ্যোগ নেয় সরকার।
 

Related Updates