Online Update

Keep in touch for online update.
পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য রয়েছে অনলাইন আপডেট। ফেসবুক ফ্যানপেজ-এর কুইজে অংশগ্রহন করতে লগ-ইন কর facebook.com/Panjeree। কুইজে অংশগ্রহন করে প্রতি সপ্তাহে জিতে নাও আকর্ষনীয় পুরষ্কার।

আশাতীত ফল, দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস

 
সারা দেশে লাখ লাখ পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলে আনন্দ ধারা না বয়ে উপায় কি। কি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা তার সমমানের পরীক্ষা, কি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা তার সমমানের পরীক্ষা—উভয়ক্ষেত্রেই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে ছোট শিক্ষার্থীরা।
 
গতকাল রবিবার একযোগে প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ইবতেদায়ি, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল।
 
ষষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত জেএসসি (অষ্টম শ্রেণি) পরীক্ষায় আটটি বোর্ডে গড় পাসের হার ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর সার্বিক পাসের হার ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।
 
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসব পরীক্ষার ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং দেড়টায় শিক্ষামন্ত্রী পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাধারণ বোর্ডগুলোতে পাসের হার বাড়লেও উভয় পরীক্ষায় মাদ্রাসায় ফল খারাপ করেছে। মাদ্রাসায় গতবারের চেয়ে পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটোই কমেছে।
 
ফল সংগ্রহের জন্য বাবা-মাকে নিয়ে গতকাল দুপুরেই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। ফল ঘোষণার সাথে সাথে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। নামি-দামি স্কুলগুলোতে ছিল অন্যরকম আয়োজন। ড্রামের তালে তালে নেচে-গেয়ে শিশুরা বাবা-মায়ের সাথে আনন্দ করেছে। গতকাল মিষ্টির দোকানগুলোতেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। মোবাইল এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করে। তবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে।
 
জেএসসি-জেডিসি: এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় মোট ২২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ২০ লাখ ৯৮ হাজার ৮২ জন। এরমধ্যে জেএসসিতে অংশ নেয় ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৯৯ জন, পাস করেছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০ জন। জেডিসিতে তিন লাখ ৪৩ হাজার ১৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে তিন লাখ ১৭ হাজার ৩১২ জন। গতবারের চেয়ে জেএসসিতে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। জেএসসিতে পাসের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে জেডিসিতে কমেছে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। গতবার জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৮৫ জেডিসিতে ছিল ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।
 
এবার জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০২ শতাংশ। গতবার ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৫ জন। এবার জেডিসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৭৬১ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ২৯০ জন। এবার জেএসসি ও জেডিসিতে সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়নি।
 
ঢাকা বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ জন। পাসের হার শতকরা ৯০ দশমিক ৩৯ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ হাজার ১০ জন।
 
রাজশাহী বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৪ জন। পাসের হার শতকরা ৯৭ দশমিক ৪৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮৩ জন।
 
কুমিল্লা বোর্ড : এই শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৯২ দশমিক ৫১ ভাগ। এবছর এই বোর্ডে অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।
 
যশোর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৩৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ২৭৮ জন। পাসের হার শতকরা ৯৫ দশমিক ৪৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৮৩১ জন ।
 
চট্টগ্রাম বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৩৯ জন। পাসের হার শতকরা ৮৫ দশমিক ৪৮ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৬৮ জন ।
 
বরিশাল বোর্ড : এ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ১৮১ জন। মোট পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। এবার বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৪৬৪ জন ।
 
সিলেট বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৫ জন। পাসের হার শতকরা ৯৩ দশমিক ৫৯ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৫৬ জন ।
 
দিনাজপুর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৩ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮২ জন। পাসের হার শতকরা ৯১ দশমিক ৫২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ১৪৩ জন।
 
পাসের হারে সেরা রাজশাহী বোর্ড : আট বোর্ডের মধ্যে এবার জেএসসিতে সেরা হয়েছে রাজশাহী। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। সবার নিচে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে ঢাকায় পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৯, বরিশালে ৯৭ দশমিক ২৬, কুমিল্লায় ৯২ দশমিক ৫১, যশোরে ৯৫ দশমিক ৪৪, সিলেটে ৯৩ দশমিক ৫৯ ও দিনাজপুরে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
 
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী: এই দুটি সমাপনী পরীক্ষায় ৩১ লাখ তিন হাজার ৩৭২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ জন। প্রাথমিকে মোট পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৪ জন। অপর দিকে ইবতেদায়িতে অংশ নিয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ২৬৬ জন।
 
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫২ ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার বেড়েছে প্রাথমিকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। গত বছর প্রাথমিকে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ ও ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এবার দুটি সমাপনীতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ জন। এর মধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন, অপরদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছে পাঁচ হাজার ৪৭৩ জন।  গত বছর মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার ৮৫২। এর মধ্যে প্রাথমিকে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন, অপরদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছিল ছয় হাজার ৪৪১ জন।
 
প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাসের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (পাসের হার ৯৯ শতাংশ) ও ৬৪ জেলার মধ্যে এবারও মুন্সীগঞ্জ (পাসের হার ১০০ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে। ৫০৯ উপজেলার মধ্যে ২৩ উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট বিভাগে (পাসের হার ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ)। বরগুনা জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন ৮২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
 
ইবতেদায়িতেও ৭ বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ পাসের হারে (পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে। চূয়াডাঙ্গায় জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন (৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। ৯২টি উপজেলায় শতভাগ পাস করেছে। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে। এ উপজেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
 
প্রাথমিকে সর্বোচ্চ পাসের হারের দিক থেকে ৭ বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী। এ বিভাগে পাসের হার ৯৯ শতাংশ। এ ছাড়া পাসের হার বরিশালে ৯৮ দশমিক ৩০, খুলনায় ৯৮ দশমিক ৯৭, ঢাকায় ৯৮ দশমিক ৭৪, চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৪১, সিলেটে ৯৬ দশমিক ৭৯ ও রংপুরে ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
 
অপর দিকে ইবতেদায়িতেও পাসের হারে সেরা রাজশাহী। এ বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ ছাড়া বরিশালে ৯৭ দশমিক ৮৫, খুলনায় ৯৬ দশমিক ২২, ঢাকায় ৯৪ দশমিক ২১, চট্টগ্রামে ৯৩ দশমিক ৯৩, সিলেটে ৯০ দশমিক ০১ ও রংপুরে ৯৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
 
প্রাথমিকে সেরা ১০: নিবন্ধনকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫, পাশের হার ও উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রাথমিক সমাপনীতে এবছর ১ম হয়েছে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। দ্বিতীয় ২য় মতিঝিল ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, ৩য় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৪র্থ মাইলস্টোন প্রিপ্রারেটরি কে.জি স্কুল, ৫ম ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ; ৬ষ্ঠ সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৭ম মোহাম্মদপুর প্রিপ্রারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; ৮ম গুলশান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯ম কুমিল্লা মর্ডান স্কুল এবং ১০ম রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গত ২২ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ নভেম্বর।
 
 

Related Updates