Online Update

Keep in touch for online update.
পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যের জন্য রয়েছে অনলাইন আপডেট। ফেসবুক ফ্যানপেজ-এর কুইজে অংশগ্রহন করতে লগ-ইন কর facebook.com/Panjeree। কুইজে অংশগ্রহন করে প্রতি সপ্তাহে জিতে নাও আকর্ষনীয় পুরষ্কার।

যশোরে ২৭৩ কিন্ডারগার্টেনে অনুমোদনহীন ৮ বই


 
যশোরের ২৭৩ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সরকার নির্ধারিত বইয়ের বাইরে শিশুদের অনুমোদনহীন ৮টি বই পড়ানো হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা সবাই বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে কোমলমতি শিশুদের ঘাড়ে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে পুস্তক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিশন ভোগ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আর বছরের পর বছর মোটা অংকের বাণিজ্য করছেন বই ব্যবসায়ীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মতে, যশোর জেলায় ২৭৩টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এরমধ্যে নিবন্ধনভুক্ত কিন্ডারগার্ডেনগুলো বিনামূল্যে সরকার নির্ধারিত বই পেয়ে থাকেন। বিনামূল্যের এই বই পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে আরও ৮টি বইয়ের তালিকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুস্তক ব্যবসায়ী ও প্রকাশকরা শুধুমাত্র মোটা অংকের অর্থ উপার্জনের জন্যই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সেসব বই কিনতে বাধ্য করছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর সদরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নাম রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। ওই স্কুলের একজন শিক্ষার্থী হুজাইফা মোড়ল। যার বয়স ছয় বছর। তাকে এবার সরকারের বিনামূল্যে বই দেয়া হয়েছে ১৪৪ পৃষ্ঠার ‘এসো লিখতে শিখি, ৭২ পৃষ্ঠার আমার ‘বাংলা বই্’ এবং ১৫৭ পৃষ্ঠার ‘আমার বই্’। এই তিনটি বইয়ে বাংলা বর্ণ লেখা, গণনা করা, সংখ্যা লেখা ও ছবি আঁকা শেখার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই স্কুলের ছাত্রী হিসেবে হুজাইফাকে আরো পড়তে হচ্ছে অজানাকে জানতে হবে, বেবি পিকচার ওয়াল্ড বুক, চিল্ড্রেন রাইমস, মডার্ন অ্যাকটিভ ইংলিশ, রঙে রঙে ছবি আকা, ছোটদের অংক শেখা, মিনার ছড়া ও কচিদের বাংলা পড়া্ নামে আরো ৮টি বই। সব মিলিয়ে তার ১১টি বইয়ে পৃষ্টা আছে ৬০৫টি। সিলেবাস অনুযায়ী সে ১১ মাস পড়ার সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে তাকে মুখস্ত করতে হবে প্রতিদিন দুই থেকে তিন পাতা পড়া। 

শুধু হুজাইয়া নয়, যশোরের অধিকাংশ শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। শহরের নব কিশালয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক মিতা সরকার জানান, স্কুলে সরকারি বইয়ের বাইরে বই পড়ানো হচ্ছে। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে এসব বই ক্রয় করতে বলেছেন। মেয়ের ওপর চাপ পড়বে জেনেও তিনি বাধ্য হয়ে আটটি বই কিনে দিয়েছেন। 

সরকার নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই পড়ানোর কথা জানতে চাইলে কিশালয় প্রি-ক্যাডেটের অধ্যক্ষ আতাহার রহমান বলেন, “এগুলো কেউ বই, কেউবা খাতা বলেন। কারণ সেগুলোর মাঝখানে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা লিখে থাকেন।”

এদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনও মনে করেন অতিরিক্ত বই পড়ানোর কারণে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে।
তিনি জানান, আইনে নিষিদ্ধ হলেও যশোরের কিন্ডারগার্টেনে অতিরিক্ত বই পড়ানো হচ্ছে। তবে আইনটি বাস্তবায়নে দায়িত্ব তাদের নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের। 

আর জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা রেজিস্ট্রেশনভুক্ত কিন্ডারগার্টেনে সরকার নির্ধারিত বই প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি বইয়ের বাইরে অনুমোদনহীন অনেক বই কিনতে বাধ্য করেন। ছোটছোট শিশুদের ঘাড়ে এমন বইয়ের বোঝা চাপানো ঠিক না। তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো নিয়মবহির্ভুত হলেও সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

এদিকে, এসব বই প্রকাশ্যে যশোর শহরের শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে বিক্রি হচ্ছে। শিক্ষকদের নির্দেশে বরাবরের মতো শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন প্রকাশনা কোম্পানির বই সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসকের অফিসের পাশেই-দড়াটানায় এসব নিষিদ্ধ বই বিক্রি হলেও তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

Related Updates