বইটির বিবরণ
এমন কিছু প্রবন্ধ রয়েছে, নানা কারণেই যেসব প্রবন্ধের কাছে পাঠককে বারবার ফিরে আসতে হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির তেমন কিছু মূল্যবান প্রবন্ধের সংকলন মননশীল লেখক তানভীর মোকাম্মেলের এ বইটি, যা গবেষণার গভীরতায় ও মননের ছটায় উজ্জ্বল। প্রবন্ধগুলোর বিষয়বস্তু থেকেই লেখকের মননশীলতা ও এসব প্রবন্ধের সুগভীর সারবত্তা বোঝা যায়। প্রবন্ধগুলো হচ্ছে 'বাঙালির মেধা: জমা, খরচ ও ইজা', 'বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের চেতনার বিকাশ প্রসঙ্গে', 'বিশ্বায়নের যুগে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা', 'লালন ফকিরের উপর সুফিবাদের প্রভাব', 'অপু ট্রিলজি: জীবনের বহমানতার এক মহাকাব্যিক চিত্র", "শেকসপিয়র ও ওঁর নাটকের 'মেঠো' দর্শক", 'এলিয়েনেশন, মার্কসবাদ ও প্রসঙ্গ সাহিত্য', 'তারাশঙ্কর, গান্ধীবাদ এবং বীরভূমের লাল মাটি', 'মিথলজি, চিত্রাঙ্গদা-কমপ্লেক্স ও আমাদের সাহিত্যে নারী', 'পথের দাবী, রাজনীতি ও শরৎচন্দ্র', 'মার্কসীয় নন্দনতত্ত্ব ও প্রসঙ্গ সাহিত্য' এবং 'গ্রামসি, মার্কসবাদ ও প্রসঙ্গ সংস্কৃতি'।
লেখকের পরিচিতি

দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি আছে তানভীর মােকাম্মেলের। সে পরিচিতি এই উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও । ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র তানভীর মােকাম্মেল চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালিখিও করে থাকেন। প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত তিনি। সম্প্রতি উপন্যাস লেখা। শুরু করেছেন। গত বছর প্রকাশিত ওঁর “দুই নগর” উপন্যাসটি পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে। ওঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “কীর্তিনাশা” সাতচল্লিশের দেশভাগ ও বিক্রমপুর অঞ্চলকে ঘিরে “নদীর নাম মধুমতী”, “চিত্রা নদীর পারে”, “লালসালু”, “লালন”, “রাবেয়া”, “জীবনঢুলী” এসব ইতিহাসসচেতন চলচ্চিত্রের মতােই তানভীর। মােকাম্মেলের লেখালিখির ধরনটাও ইতিহাসমনস্ক ও মননশীল। ওঁর রচিত গল্প-উপন্যাস ও কবিতায় এমন গভীর একটা সমাজমনস্কতা ও ইতিহাস চেতনা রয়েছে যা ওঁকে বর্তমান সময়ের আর পাঁচজন লেখক থেকে একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। তানভীর মােকাম্মেল এ পর্যন্ত বিশটির মতাে কাহিনী ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন, লিখেছেন বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালােচনামূলক বই, আর লিখেছেন প্রচুর কবিতা । ওঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের মতাে ওঁর রচনাগুলােও হয়ে পড়েছে বাংলা নামের এই জনপদের কাল ও সময়ের এক নির্মিতি যা এক বিশেষ সময়কালকে ধারণ করলেও হয়ে উঠেছে কালাতিক্রান্ত। দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়েছে।