বইটির বিবরণ
মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্পই লোকগল্প। এটি লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মৌখিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে লোকগল্প। এর মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ধারা সংরক্ষিত হয়। ভৈরব পারের লোকগল্প-এ স্থান পাওয়া প্রতিটি গল্পই লোকমুখে শোনা লোকগল্প।
আদিকালে পণ্ডিতমশায়ের কাছ থেকে কথা কেনা হতো। কথা কেনা গল্পে এক জোলার ছেলের কথা কিনে নিজের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করার গল্প দেখা যায়। রাজহাতি ও শেয়াল পণ্ডিত গল্পটি একটা হাতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। সেই সাথে শেয়াল পণ্ডিতের চালাকির গল্প। সাপ কি কখনো হাতি গিলে খেতে পারে? সাপের হাতি গেলা ঠিক তেমনই এক গল্প। বণিক পালোয়ান গল্পে দেখা যায় বণিক কীভাবে পালোয়ান হয়ে ওঠে।
ভৈরব পারের লোকগল্প বইয়ের প্রতিটি গল্প যেন গ্রামবাংলার কথা বলে, রাজরাজড়াদের কথা বলে। গল্পগুলো আমাদের হাজার বছরের পুরানো ঐতিহ্যের আয়না।
লেখকের পরিচিতি

মেহেরপুর জেলার খন্দকারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত ওহাব আলী ও মাতা মৃত জহুরা খাতুন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। শিক্ষকতা পেশায় অর্জিত দর্শনে সমকালীন উপন্যাস দিয়ে লেখালিখি শুরু করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে শিশু-কিশোর গল্প-উপন্যাসে মন দেন। তাঁর লেখায় গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের চাক্ষুষ বিবরণ উঠে আসে।
প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্যের আর্তনাদ (প্রবন্ধ), আলোর ফেরিওয়ালা (উপন্যাস), পক্ষী জীবন (ছোটোগল্প)।
তরুণ এই সাহিত্যিক শিশু-কিশোরদের জন্যও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন: জ্বীনের দেশে (কিশোর গল্পগ্রন্থ), গল্পগুলো মজার (শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ), গল্পের গরু গাছে (শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ), পিঁপি ও কুড়িয়ে পাওয়া ডিম (শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ)।
পক্ষী জীবন গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি 'প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২২' পেয়েছেন।