বইটির বিবরণ
জয়নুল আবেদিন ছিলেন গণমানুষের শিল্পী। মানুষকে তিনি স্থান দিয়েছেন সবার ওপরে। তিনি বলেছিলেন- যদি কেউ নিশিরাতে গামছা পরে আমাকে ডাক দেয়, আমি তার হাত ধরে চলে যাব। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ সালে খাদ্যের অভাবে ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় ছুটে আসা ভুখা-নাঙ্গা অজস্র নারী-পুরুষ ও শিশুর দুর্দশার ছবি তিনি আঁকলেন সাধারণ কাগজে অসাধারণ রেখায় কালি ও তুলিতে। এ দেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক সাদামাটা স্বভাবের গুণী এই মানুষটির জীবন, ভাবনা, তাঁর সারা জীবনের সৃজন ও অর্জন উঠে এসেছে এ বইতে। ঝরঝরে ভাষায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ এই বইটি জয়নুল সম্পর্কে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সি পাঠকের তৃষ্ণা মেটাবে।
লেখকের পরিচিতি

জাহিদ মুস্তাফা জন্ম টাঙ্গাইলে ১৯৬২ সালে। মাধ্যমিক টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী বালক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে। উচ্চমাধ্যমিক করেছেন কাগমারী মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৮৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে চারু ও কারুকলা প্রশিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির সূচনা। পরে ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পনির্দেশক হিসেবে নিযুক্তি। ২০২১ সালে পরিচালক (শিল্পনির্দেশনা) পদ থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে বিশ্বখ্যাত ভেনিস বিয়েনালের ৫৫তম আসরে বাংলাদেশ প্যাভেলিয়নে অংশগ্রহণ। সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে ভ্রমণ করেছেন- গণচীন, ইতালি, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। তাঁর চিত্রকর্ম সংগ্রহ করেছে- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় চিত্রশালা, অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা-সহ ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায় ব্যক্তিগত সংগ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান। শিল্পলেখক হিসেবে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে সোসাইটি ফর প্রমোশন অব বাংলাদেশ আর্ট (এসপিবিএ)-র ত্রৈমাসিক মুখপাত্র শিল্পপ্রভা সম্মাননা লাভ। প্রকাশনা : কাব্যগ্রন্থ: তুমি রাত্রি আমি কাপালিক (১৯৯০), কষ্টপাথর কন্যা (১৯৯৭), করতলে মেঘ (২০১৩), পদ্যবাড়ি (২০১৮)। যৌথ কবিতা গ্রন্থ: পাঁচের পাঁচালী (২০১৮), পাঁচের পাঁচালী ২ (২০২০)। ছড়ার বই: ছড়াছড়ি গড়াগড়ি (২০০৭), ছবির হাটে ছড়ার মাঠে (২০০৯), এমএফএ অভিসন্দর্ভ: স্বদেশ চেতনা ও বাংলাদেশের চিত্রকলা।