বইটির বিবরণ
বিষণ্ণ যুবকের জবানবন্দি হয়ে ওঠা এ গল্পগ্রন্থের অধিকাংশ পৃষ্ঠাতেই ছড়িয়ে আছে বিষণ্ণতা। এ বিষণ্ণতা কখনো উৎসারিত হয় টানাপোড়েনের সংসারের জোয়ালটানা জীবন থেকে, কখনো গৌরবময় যুদ্ধজয়ের পর ফিরে এসে প্রিয় মানুষদের না পাওয়ার হাহাকার থেকে, কখনো অল্পদিনের ব্যবধানে পরিবারের সবচেয়ে বড়ো দুই অবলম্বন হারিয়ে, কখনো বৃদ্ধ বয়সে কর্মক্ষম জীবনের স্মৃতিচারণ সভা থেকে, আবার কখনো একাকী যুবকের পারিবারিক জীবনের আবহ-শূন্যতা থেকে। এই বিষণ্ণতা যাপনের ফাঁকে হঠাৎ ছুঁয়ে যাবে প্রেম প্রেম অনুভূতি, আলোড়িত করে যাবে কাটা হাতের রহস্য, রোমাঞ্চ জাগাবে ড্রাইভার-হেলপারের শেষ পাতার শিরোনাম হওয়ার পরিণতি। আর যুদ্ধে যাওয়া খোকার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা মা-বাবার আকুতি হয়তো কাঁপিয়ে দেবে বুকের ভেতরটা। এসবের ফাঁকে আবার হয়তো ক্ষোভ জাগিয়ে তুলবে সমাজের বিবেকের অন্ধত্বের প্রকাশে। সব মিলিয়ে বারোটি গল্পের এ ভ্রমণে আপনাকে একেকবার উঠে পড়তে হবে একেক ট্রেনে। এক স্টেশনে নেমে যেতে হবে আরেক অচেনা স্টেশনের দিকে। মধ্যদুপুরে বিষণ্ণ যুবকের জবানবন্দির সাক্ষী হয়ে আপনি এক পাশে যখন দেখবেন কাকেদের জলকেলি, অন্য পাশে তখন চোখের সামনে ভেসে উঠবে গলায় ফাঁস লাগানোর আয়োজন করে ঝুলে থাকা রশিটা!
লেখকের পরিচিতি

মুহসীন মোসাদ্দেক মূলত গল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক। পাশাপাশি অনুবাদ করেন বিশ্বসাহিত্যের পছন্দের গল্পগুলো। জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। লিখেছেন কিশোর উপন্যাস ‘লাবুদের দস্যিপনা’। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। জীবিকা অন্বেষণের স্রোতে ব্যস্তজীবন পেরিয়ে সাহিত্যপাঠের ফাঁকে ফাঁকে লিখেন খুব অল্পই। জীবনটাকে যেভাবে দেখেন, আগামীর সময় নিয়ে যা ভাবেন এবং অনুভূতিগুলো যেভাবে অনুভব করেন—লেখায় তা প্রকাশ করতে চেষ্টা করেন সবটুকু দিয়ে। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা এতটুকুই, লেখাগুলো কেবল যথাযথ পাঠকের নাগালে পৌঁছে যাক, কিছু যথাযথ পাঠক সঙ্গী হোক লেখার এ দুরন্ত জীবনে।