বইটির বিবরণ
বাংলাদেশের শিশু: ভিটামিন ডি পরিপ্রেক্ষিত গ্রন্থটি মূলত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের সারাৎসার। অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্মটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক সমীক্ষা, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে হাইপোভিটামিনোসিস ডির প্রাদুর্ভাব নির্ধারণ করা।
বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে হাইপোভিটামিনোসিস ডি সম্পর্কিত অনেক গবেষণা থাকলেও শিশু জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এ সম্পর্কিত তথ্যের অভাব রয়েছে। এই অভাব পূরণের লক্ষ্যেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ডি-র অপ্রতুলতা ও এর অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সিটির একটি পেডিয়াট্রিক ক্লিনিকে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে যেসব আশঙ্কাজনক তথ্য এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে তা বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
গবেষণাটি পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানী, ব্যবহারজীবী এবং স্বাস্থ্যখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের শুধু নন, কৌতূহলী সব শ্রেণির পাঠকেরও জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। একইসঙ্গে যেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে তা শিশুবৃদ্ধ নির্বিশেষে যেকোনো মানুষের স্বাস্থ্যের ইতিবাচক অবস্থা তৈরিতে সহায়ক হবে। গণসচেতনতা বাড়াতে এই গবেষণামূলক বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেখকের পরিচিতি

শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি পটিয়ার ধলঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম কলেজ হয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। ১৯৯৫ সালে তিনি শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে 'এফসিপিএস' অর্জন করেন। গ্রেট ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনস অব গ্ল্যাসগো থেকে পেয়েছেন 'এফআরসিপি' ফেলোশিপ। শিশু-চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণাকর্মের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি। অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীর লেখালিখির জীবন প্রায় তিন দশকের। শিশুস্বাস্থ্য-চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর ৩৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে প্রচুর লেখা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। শিশু-চিকিৎসাশাস্ত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তন্মধ্যে 'শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক গোল্ড মেডেল', 'চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক ২০১৭' এবং চট্টগ্রাম অ্যাকাডেমি প্রদত্ত 'আজীবন সম্মাননা' লাভ করেছেন। একাধারে কবি, গীতিকার ও সাহিত্যিক এই লেখক শিশুতোষ লেখার জন্য পেয়েছেন 'দিগন্তধারা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮' এবং দেবশিশু উপন্যাসের জন্য 'আহমদ ছফা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯'। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। সেইসঙ্গে শিশু শিক্ষা-সংস্কৃতি, শিশু-চিকিৎসা সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'শিশু-বিশ্ব'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।