বইটির বিবরণ
অনেকটা উদ্দেশ্যহীনভাবেই গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা প্রেমিক আম্লে আর প্রেমিকা আলিদা ঘুরে বেড়াচ্ছিল নরওয়ের জমজমাট শহর বিয়ার্গোয়েনে। কিছুদিন আগেও তারা ভাবেনি যে এভাবে তাদের সংসার কাঁধে নিয়ে কতশত স্মৃতিভরা ভেলাঘর, সমুদ্র আর গ্রাম পেছনে ফেলে চলে আসতে হবে। কিন্তু সেখানে থাকা গেল না কোনোভাবেই। তারা তো চেয়েছিল জীবন কাটিয়ে দেবে ভেলাঘরে। কিন্তু বিধি বাম। তাদের দুজনকে শীতের রাতের আঁধারে উঠে পড়তে হলো ডিঙি নৌকায়। তারপর তারা পাল তুলল, হাল ধরল, বইঠা বাইল বিয়ার্গোয়েনের উদ্দেশে। এ যে বড়ো বড়ো স্বপ্নের শহর, বড়ো বড়ো স্বপ্নবাজদের শহর। কিন্তু তাদের মনে বড়ো কোনো স্বপ্ন ছিল না, তারা আপাতত চাইছিল একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই।
সত্যি বলতে কী, দুজন নয়, আসলে তারা তিনজন ঘুরে বেড়াচ্ছিল শহরময়। কারণ আলিদার গর্ভে এসেছে এক নতুন প্রাণ। যেকোনো সময় সে প্রাণ ভূমিষ্ঠ হতে পারে। কিন্তু এই শহর কি এই নবপ্রাণকে ভূমিষ্ঠ হতে দেবে? তাকে নিয়ে আস্লে-আলিদা কি শুরু করতে পারবে নতুন জীবন?
লেখকের পরিচিতি

জন ওলাভ ফস (নরওয়েজিয়ান: [ˈjʊ̀nː ˈfɔ̂sːə]; জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯) একজন নরওয়েজিয়ান লেখক, অনুবাদক এবং নাট্যকার। ২০২৩ সালে, তিনি "অকথ্যের কণ্ঠস্বর প্রদানকারী তার উদ্ভাবনী নাটক এবং গদ্যের জন্য" সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। ফসের রচনা সত্তরটিরও বেশি উপন্যাস, কবিতা, শিশুতোষ বই, প্রবন্ধ এবং থিয়েটার নাটকের উপর বিস্তৃত, যা পঞ্চাশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। হেনরিক ইবসেনের পরে সর্বাধিক অভিনীত নরওয়েজিয়ান নাট্যকার, ফস বর্তমানে - বিশ্বব্যাপী এক হাজারেরও বেশি মঞ্চে উপস্থাপিত প্রযোজনা সহ - বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক অভিনীত সমসাময়িক নাট্যকারদের একজন। তাঁর ন্যূনতম এবং গভীরভাবে আত্মদর্শনমূলক নাটক, যার ভাষা প্রায়শই গীতিকবিতা এবং কবিতার সাথে সীমানাযুক্ত, ঊনবিংশ শতাব্দীতে হেনরিক ইবসেন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নাটকীয় ঐতিহ্যের একটি আধুনিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফসের কাজ প্রায়শই উত্তর-নাট্য-পরবর্তী থিয়েটারের ঐতিহ্যের মধ্যে স্থান পেয়েছে, যদিও তার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসকে উত্তর-আধুনিকতাবাদী এবং আভান্ট-গার্ড সাহিত্যের ধারার অন্তর্গত বলে বর্ণনা করা হয়েছে, কারণ তাদের ন্যূনতমতা, গীতিকবিতা এবং বাক্য গঠনের অপ্রচলিত ব্যবহারের কারণে।

জায়ন রাব্বি সমাদ্দার একজন বাংলাদেশি ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টান। তাঁর মায়ের বাড়ি চাঁদপুর, বাবার বাড়ি বরিশাল, বর্তমানে থাকেন উত্তরায়। নাম রেখেছিলেন বড়ো পিসি। অবশ্য পিসিমা জায়নবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। উপার্জনের জন্য এনজিওর প্রোজেক্টভিত্তিক গবেষণা ডিজাইন, ডাটা অ্যানালাইসিস, রিপোর্ট রাইটিং করেন। সময় পার করার চেষ্টা করেন সংসার করে, ইউটিউব দেখে, পিসিতে সিনেমা দেখে, গানবাজনা শুনে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে আর আকাশকুসুম চিন্তা করে। বিশ্বসাহিত্যের সিরিয়াস পাঠক হওয়ার চেষ্টায় রত। তবে অগ্রগতি খুবই শ্লথ। অনুবাদ করাকে বইপড়ার বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে দেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মৌলিক কিছু লেখা এখন পর্যন্ত তাঁর আকাশকুসুম চিন্তার অংশ।