বইটির বিবরণ
বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘উপন্যাস ত্রয়ী’তে মলাটবদ্ধ ‘কানাগলির মানুষেরা’, ‘আজগুবি রাত’ এবং ‘তিন পর্বের জীবন’। তিন উপন্যাসের বিস্তৃত ক্যানভাসে উঠে এসেছে মানুষ, সমকাল, আর আমাদের দেখা না দেখার বিশাল পরিমণ্ডল যা পাঠককে মুগ্ধ করবে।
‘উপন্যাস ত্রয়ী’র প্রথম উপন্যাসটি পড়তে শুরু করলে কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সাহিত্যের বৈঠকখানা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা মূলত একা হয়ে যাই। কানাগলির মানুষেরা তখন আমাদের সঙ্গে পা মিলিয়ে হাঁটেন।
‘আজগুবি রাত’ থেকে উৎসারিত একটি ভেসে আসা কাটা হাত তার করতলের মেহেদি আমাদের দাম্ভিক সভ্যতাকে এনে দাঁড় করায় এক মেধাবী যন্ত্রণার সামনে এবং আমরা উপলব্ধি করি সৌন্দর্যের সারাৎসার ছড়িয়ে পড়েছে নাজিমুদ্দীন রোডে, শাহীনের মুখের ল্যান্ডস্কেপে।
‘তিন পর্বের জীবন’ আসলে লেখকের অন্তর্যাতনা— যা সম্পূর্ণ নিঃসম্বল ও একাকী কোনো ছত্রীসেনার মতো আমাদের চিন্তার বিন্যাসকে বদলে দেয়। ‘কানাগলির মানুষেরা’ ও ‘আজগুবি রাত’ – এই দুয়ের মাঝে ‘তিন পর্বের জীবন’ আসলে ব্রিজ নয়; বরং ক্র্যাক— যার মধ্য দিয়ে ঢুকে পড়ছে বিপন্নতার অর্কেস্ট্রা, মায়ার দর্পণ আর ভাষাবিহারের যন্ত্রণা। পাঠক এই উপন্যাসত্রয়ী’র মধ্যে খুঁজে পাবেন নিজেকে। খুঁজে পাবেন তাঁর চারপাশকেও।
লেখকের পরিচিতি

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম জন্ম ১৮ জানুয়ারি ১৯৫১ সাল, সিলেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ১৯৮১ সালে পিএইচডি করেন কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতা বিষয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক, শিল্পকলার প্রাজ্ঞ প্রাবন্ধিক, সমাজনিষ্ঠ কলামলেখক এবং কথাসাহিত্যিক। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ গল্পগ্রন্থ : স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯৪), থাকা না থাকার গল্প (১৯৯৫), কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প (১৯৯৮), সুখদুঃখের গল্প (২০১১), বেলা অবেলার গল্প (২০১৪)। উপন্যাস : আধখানা মানুষ (২০০৬), তিন পর্বের জীবন (২০০৮), কানাগলির মানুষেরা (২০০৯), আজগুবি রাত (২০১০), দিনরাত্রিগুলি (২০১৩)। প্রবন্ধ ও গবেষণা : নন্দনতত্ত্ব (১৯৮৬, ২০১৫), কতিপয় প্রবন্ধ (১৯৯২), অলস দিনের হাওয়া (২০১৩), রবীন্দ্রনাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ ইত্যাদি। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রেম ও প্রার্থনার গল্প গল্পগ্রন্থটি ২০০৫ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা সৃজনশীল বই হিসেবে নির্বাচিত হয়। সাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৬) ও একুশে পদক (২০১৮) লাভ করেন।